প্রিন্ট এর তারিখঃ Nov 8, 2026 ইং || প্রকাশের তারিখঃ Nov 8, 2026 ইং
ইউক্রেন ইস্যুতে আবুধাবিতে যোগ দিচ্ছে ফ্রান্স

ইউক্রেন ও রাশিয়ার মধ্যে চলমান উত্তেজনা নিরসনের লক্ষ্যে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্ততায় চলতি সপ্তাহে আবুধাবিতে বৈঠক বসছেন উভয় দেশের প্রতিনিধিরা। এতে রাশিয়ার উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই রিয়াবকভসহ দেশটির জ্যেষ্ঠ সামরিক কর্মকর্তা ও কূটনীতিকরা উপস্থিত থাকবেন।
সংঘাত নিরসনে চলতি বছরের ফেব্রুয়ারির পর দেশের নেতাদের মধ্যে এটি প্রথম বৈঠক হতে যাচ্ছে। তবে রবিবার (৮ নভেম্বর) অনুষ্ঠিত বৈঠকে ইউরোপের প্রতিনিধি হিসেবে ফ্রান্স উপস্থিত থাকবে বেল নিশ্চিত করেছে। ফরাসি পররাষ্ট্রমন্ত্রী জঁ-নোয়েল বারো আরটিএল রেডিওকে বলেছেন, এই আলোচনায় ইউরোপীয়দের প্রতিনিধিত্ব থাকবে এবং ফ্রান্সও আবুধাবিতে উপস্থিত থেকে এতে অংশ নেবে।
ক্রেমলিনের মুখপাত্র দিমিত্রি পেসকভ ইন্টারফ্যাক্স বার্তা সংস্থাকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। যদিও কারা এই আলোচনায় অংশ নেবেন, তাদের পরিচয় এখনো প্রকাশ করা হয়নি। ট্রাম্প রাশিয়ার সঙ্গে বড় একটি চুক্তির ইঙ্গিত দেওয়ার পর এই মন্তব্যটি এসেছে। মার্কিন প্রেসিডেন্টের এই ইঙ্গিতের ফলে এমন আশঙ্কা তৈরি হয়েছে, ওয়াশিংটন হয়তো ক্রেমলিনের দিকে ঝুঁকে পড়তে পারে। কারণ এই চুক্তিতে কেবল ইউক্রেন যুদ্ধই নয়, বরং ‘পুরো ইউরোপ’ অন্তর্ভুক্ত থাকার কথা বলা হয়েছে।
ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি জানিয়েছেন, তিনি এই প্রক্রিয়ায় ইউরোপীয় মিত্রদের অংশগ্রহণ চান। অন্যদিকে, মস্কো এই আলোচনায় ইউরোপীয় প্রতিনিধিদের কোনো স্থান থাকবে না বলে জানিয়েছে। ফরাসি পররাষ্ট্রমন্ত্রী বারো জানিয়েছেন, অতীতেও এমন আলোচনা হয়েছে কখনো ইউরোপীয়দের ছাড়াই, আবার কখনো তাদের উপস্থিতিতে তবে এবার তারা অবশ্যই অংশগ্রহণ করবেন। তিনি বলেন, ফ্রান্স সেখানে থাকবে এবং নিশ্চিত করবে যেন ইউরোপের কণ্ঠস্বর শোনা যায়।
বৃহস্পতিবার আবুধাবিতে অনুষ্ঠেয় আলোচনার আগে ব্রাসেলসে যুক্তরাষ্ট্র, ইউরোপ, ইউক্রেন এবং নর্থ আটলান্টিক ট্রিটি অর্গানাইজেশন (ন্যাটো)-এর কর্মকর্তারা বৈঠক করেছেন। ন্যাটোর একজন মুখপাত্র জানিয়েছেন, তারা ইউক্রেন যুদ্ধের একটি ন্যায়সংগত ও টেকসই সমাপ্তি অর্জনের লক্ষ্যে কাজ করছেন।
মার্কিন প্রেসিডেন্টের দূত ও জামাতা জ্যারেড কুশনার ভিডিও লিঙ্কের মাধ্যমে ব্রাসেলসের এই বৈঠকে অংশ নেন। তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র এমন একটি বৃহত্তর ইউরোপীয় নিরাপত্তা কাঠামো নিয়ে কাজ করছে, যা দীর্ঘস্থায়ী শান্তির পরিবেশ তৈরিতে সহায়তা করতে পারে। ইউরোপীয় মিত্ররা যুক্তরাষ্ট্রের এই দৃষ্টিভঙ্গিকে সতর্কতার সঙ্গে দেখছে; কারণ তারা দীর্ঘদিন ধরেই ইউরোপীয় নিরাপত্তা কাঠামো নতুন করে সাজানোর বিষয়ে মস্কোর আকাঙ্ক্ষাকে প্রত্যাখ্যান করে আসছে।
২০২২ সালে ইউক্রেনে যুদ্ধ শুরুর আগে ক্রেমলিন ন্যাটোর কাছে একটি আল্টিমেটাম দিয়েছিল। এতে পূর্ব ইউরোপ থেকে ন্যাটো জোটের সেনা প্রত্যাহারের দাবিও অন্তর্ভুক্ত ছিল। বৃহস্পতিবার কুশনার জানিয়েছেন, আবুধাবি আলোচনার পাশাপাশি ওয়াশিংটন আমাদের ইউরোপীয় অংশীদারদের সঙ্গে নিবিড়ভাবে পরামর্শ করবে। যদি অগ্রগতি অর্জিত হয়, তবে তাদের সরাসরি অংশগ্রহণের মাধ্যমে একটি বৃহত্তর বহুপক্ষীয় কাঠামোর দিকে এগিয়ে যাওয়ার লক্ষ্য থাকবে।
সূত্র: এএফপি।
এই ওয়েবসাইটের সকল ছবি ও ভিডিও অনুমতি ব্যতীত ব্যবহার করা নিষেধ। উক্ত নিউজ পোর্টালটির নিবন্ধন কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন আছে।